বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের ফরাজীকান্দা এলাকার কাজী বাড়ি থেকে রেললাইন পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার দৈঘ্যের্র সরু রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়া এই এলাকাটিতে নাগরিক সুবিধার লেশমাত্র নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনের সময় তৎকালীন কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন নূর এলাকাবাসীর সুবিধার্থে একটি ড্রেন নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু এরপর পরপর দুজন কাউন্সিলরের কার্যকাল অতিবাহিত হলেও সেই ড্রেনটি সংস্কার বা নতুন কোনো রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ওই ড্রেনটিই বর্তমানে এলাকাবাসীর একমাত্র চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ আর কথা রাখেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অনুন্নত ও জরাজীর্ণ এই ড্রেনে সবসময় নোংরা পানি জমে একাকার হয়ে থাকে। বৃষ্টি নামলে পুরো এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়, যা চরম অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এই এলাকা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন যতটুকু করে গেছেন, এরপর আর কারও কোনো খোঁজ নেই। সবাই নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত।
আরেক বাসিন্দা আক্ষেপ করে জানান, গোটা সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে উন্নয়ন হলেও আমাদের দিকে কারও দৃষ্টি নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে ভুগছি। চলাচলের জন্য আমাদের কোনো রাস্তাও নেই, আগের সেই ড্রেনটি দিয়েই জোড়াতালি দিয়ে চলাচল করতে হয়।
বছরের পর বছর সব ধরনের ট্যাক্স পরিশোধ করার পরও সিটি করপোরেশনের কোনো নাগরিক সুবিধা না পাওয়ার তীব্র নিন্দা জানান এলাকাবাসী। বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলেন, আমরা আমাদের মৌলিক নাগরিক অধিকারটুকু চাই। এভাবে চলতে থাকলে সিটি করপোরেশনের চেয়ে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদই ভালো ছিল।
দ্রুত এই অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং যাতায়াতের জন্য একটি স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।