বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় জমির মালিকানা, মৌখিক বায়না, জালিয়াতি এবং মারধর ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা একটি পিটিশন মামলায় সিআইডি এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ (ডিসমিস) করে আদেশ প্রদান করেছেন। উভয় সংস্থার তদন্তে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ এবং হাত বায়না লেনদেনের তথ্য উঠে এলেও পরবর্তীতে আদালতের আদেশে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগে বাদী মো. শরীফ হোসেন (৫৮) উল্লেখ করেন যে, বন্দর থানাধীন হরদী মৌজায় সিএস ও এসএ খতিয়ানভুক্ত এসএ ১৭ নং দাগে ২ আনা ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য দাগ মিলে সর্বমোট ১১৫ শতাংশ জমির পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ও ভোগদখলকার ছিলেন। পরবর্তীতে বাদীর পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের কারণে উক্ত জমির কিছু অংশ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট মৌখিক বায়না ও সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিলের অপব্যাখ্যা করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বাদীর ভোগদখলীয় জমিতে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন। এই ঘটনায় প্যানেল কোডের ৩২৩, ৪০৬, ৪২০ এবং ৫০৬(২) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ এনে বিজ্ঞ আদালতে পিটিশন মামলা (নম্বর- ২৬৮/২০২৪) দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রথমে সিআইডি এবং পরবর্তীতে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
সিআইডি নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোসা. হাসিনা বেগম এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক পরিচালিত পৃথক তদন্তে জানা যায় যে, বিবাদীপক্ষ ও বাদীপক্ষের মধ্যে মৌখিক বায়না ও জমি কেনাবেচার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ও পারিবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। স্থানীয় স্বাক্ষীদের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিবাদীরা দীর্ঘকাল ধরে এলাকায় বিশ্বস্ততার সাথে হাত বায়নার মাধ্যমে জমি কেনাবেচার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে তদন্তকালে ঘটনাস্থলে মারধর, জালিয়াতি কিংবা বাদীর সাক্ষীদের কোনো প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট বা দালিলিক কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। জমির দখল এবং মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ইতিপূর্বেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে একাধিক দেওয়ানি ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা (যেমন- দেওয়ানি মামলা নং- ৪১৪/২০২২ ও ৫১৬/২০২২) চলমান রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিজ্ঞ আদালত নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয় যে, বাদীপক্ষ গত ১৬/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখ থেকে আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের প্রার্থনা করে আসছেন এবং পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনের বিপরীতে কোনো নারাজি দরখাস্তও দাখিল করেননি। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায়, নালিশকারীর নালিশী দরখাস্তটি প্রতিবেদনের আলোকে ভিত্তিহীন মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় এবং বাদী নিজ মামলায় অনুপস্থিত থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বন্দর আমলী আদালত তথা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারার বিধান মোতাবেক নালিশী দরখাস্তটি ডিসমিস (খারিজ) করেন এবং মামলাটি নথিজাত করার নির্দেশ প্রদান করেন।