বন্দর প্রতিনিধি:
জীবনের কত শত রঙিন স্বপ্ন আর উচ্চশিক্ষার দ্যুতি ঝিলমিল করছিল যার চোখে, সেই তরুণ প্রাণটি নিভে গেল মুহূর্তের এক ঝট্কায়। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইউনুস রাশিদ নিঝুম (২২) নামের এক উদীয়মান অনার্স পড়ুয়া তরুণ চিরতরে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তার সহচর বন্ধু ফারহান (১৯)।
নিহত নিঝুম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া ও ফারজানা বেগমের অতি আদরের সন্তান। খেটে খাওয়া বাবার সততার সংসারে নিঝুম ছিল বুকভরা আশার প্রদীপ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতের নিঝুম আলো আঁধারে ঘেরা শীতলক্ষ্যা সেতু এলাকায় গিয়েছিলেন বন্ধু ফারহানকে সঙ্গে নিয়ে। কে জানত, এই আনন্দভ্রমণটিই তাদের জীবনের শেষ যাত্রায় রূপ নেবে? দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর সুউচ্চ রেলিংয়ে সজোরে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বাইকটি প্রায় ৩০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই থেমে যায় নিঝুমের সব স্বপ্ন ও হৃদস্পন্দন। অন্যদিকে, সহযাত্রী ফারহানের কচি শরীর জুড়ে নেমে আসে আঘাতের ক্ষত—মাথা, গলা, হাত ও পা রক্তাক্ত হয়ে সে এখন হাসপাতালের বিছানায় নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
খবর পেয়ে কান্নার রোল পড়ে যায় চারদিকে। স্বজন ও স্থানীয়দের দ্রুত পদচারণায় ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল আর বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা নিঝুমকে মৃত ঘোষণা করেন।
একটি তরতাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাওয়ায় নিঝুমের শোকার্ত পরিবারে এখন চলছে বুকফাটা আর্তনাদ। মা-বাবার একমাত্র সান্ত্বনা হারিয়ে গোটা নবীগঞ্জ এলাকার বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে। এই আকস্মিক মৃত্যু কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; এটি যেন এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের নির্মম অপমৃত্যু, যা পুরো এলাকাবাসীকে নামিয়ে এনেছে গভীর শোকের সাগরে।